বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইল ফোন নির্ভরতা উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। এই প্রবণতা রুখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে উলুবেড়িয়ার বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক — উভয়ের মধ্যেই সচেতনতা ও পরিবর্তন এসেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজদূত সামন্ত জানিয়েছেন, “শিশুদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। এতে তারা ধীরে ধীরে মোবাইল থেকে দূরে সরে মাঠে খেলাধুলা ও পড়াশোনার দিকে ফিরছে।”
পূজার ছুটির আগে বিদ্যালয়ে আয়োজিত অভিভাবক বৈঠকে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর পরিবারের হাতে দেওয়া হয় একটি বিশেষ ‘মোবাইল আসক্তি নিয়ন্ত্রণ কার্ড’। অভিভাবকরা প্রতিদিন তাতে সন্তানের মোবাইল ব্যবহারের সময় লিখে রাখেন। এক মাস পর সেই কার্ড জমা দেওয়া হয় বিদ্যালয়ে। এর ফলে শিশুরা জানে, তাদের মোবাইল ব্যবহারের খবর শিক্ষকরা জানতে পারবেন — আর তাই নিজেরাই ফোন থেকে দূরে থাকতে শুরু করেছে।
প্রথম শ্রেণির ছাত্র সমন্তক মণ্ডল হাসিমুখে জানিয়েছে,
“স্যার ফোন না দেখার জন্য কার্ড দিয়েছেন। যদি ফোন দেখি, মা তাতে লিখে দেন। তাই এখন ফোন দেখলেই ভয় পাই।”
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাজিদ থান্দার, বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের সদস্য, বলেছে,
“আমরা ভালো কাজ করলে স্যার পুরস্কার দেন। কিন্তু ফোন দেখলে খবর স্যারের কাছে যায়। তখন স্যার রাগ করবেন, তাই আমরা ফোন দেখি না।”
এক অভিভাবক জানিয়েছেন, “আগে যতই বকাবকি করতাম, কিছুতেই কাজ হতো না। এখন কার্ডে মোবাইল দেখার সময় লিখে রাখতে হয় বলে ছেলে নিজেই ফোন ধরতে ভয় পায়।”
বিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রার্থনা সভায় “মাঠে পাঠান, মোবাইল ছাড়ান” দলের সদস্যরা মোবাইলের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। এর ফলে শুধু ছাত্রছাত্রী নয়, অভিভাবকদের মধ্যেও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এসেছে।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রশ্মি খাতুন জানিয়েছে,
“এখন আমি পড়াশোনায় বেশি মন দিচ্ছি, মোবাইল দেখার ইচ্ছে অনেকটাই কমে গেছে।”
