রাজারহাটে গভীর রাতে বিলাশ বহুল গাড়িতে যুবককে তুলে নিয়ে গেছে বেলপুকুর আরএমপি পুলিশ




রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
সাইবার সুরক্ষা আইনে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই এক যুবককে গভীর রাতে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে বিলাশ বহুল গাড়িতে সাদা পোশাকধারী রাজশাহীর বেলপুকুর আরএমপি পুলিশ। এঘটনাকে মৌলিক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন ভূক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার বাজারহাট উপজেলা সদরের খুলিয়াতারী গ্রামে। বেলপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালামের কন্যা নুসরাত জাহান কলি'র মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় ওই গ্রামের যুবক লাবিবকে।

জানা যায়, সোমবার (২৭অক্টোবর) রাত সাড়ে ৪টায় রাজারহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও ওই গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুজ্জামানের বাড়িতে অনুমতি ছাড়াই জোড় পূর্বক প্রবেশ করে প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে লাবিব (২২) কে গ্রেফতার করে। বেলপুকুর থানার এস আই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে এ তল্লাশি চালানো হয়। এসময় পরিবারের লোকজন লাবিবের অপরাধ ও আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা দেখতে চাইলে এস আই জাহিদ হাসান বলেন, তারা বেলপুকুর আরএমপি থানার পুলিশ। এসময় তিনি বলেন থানায় মামলা হলে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রয়োজন হয় না।

লাবিবের মা উম্মে হাবিবা লায়লা বলেন, "কলির মা রাজারহাটের তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা থাকাবস্থায় 'কলি আমাদের বাড়িতে নিয়মিত যাওয়া আসা করতো। আমি অনেকদিন তাকে নিজ হাতে রান্না করে খাইয়েছি। সেসময় তাদের মাঝে কোন সম্পর্ক সৃষ্টি হতে পারে। একে অপরের প্রতি তাদের ভালো মিল ছিল। তখন কেউ-কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ I তুলেনি ওরা দু'জন। আজ হঠাৎ করে সেই কলির অভিযোগে পুলিশ মুসলিম পরিবারের শালীনতা নষ্ট করে আমার বাড়ির প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। আমার ছেলে অপরাধী হলে কলির বাবা-মা আমাদেরকে কেন জানালো না?

এবিষয়ে বেলপুকুর আরএমপি থানার ওসি সুমন গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন গ্রেফতার হচ্ছে তদন্তের অংশ। অভিযোগে থানা পুলিশের গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে একটা পার্টি যদি কুড়িগ্রামে যায় সে কি পুলিশের গাড়ি নিয়ে যাবে। পুলিশের গাড়ি তো তার থানা এলাকার মধ্যে ব্যবহার করা হয়। সাদা পোশাকে আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে বলেন আমার পার্টি ইউনিফর্ম পরে গেছে হয়তো রাত্রে কোন জায়গায় ইউনিফর্ম খুলতে পারে সেটা তো আমি দেখি নাই

রাজারহাট থানার ওসি নাজমুল আলম বলেন আমার থানায় এসে রিপোর্ট করে এবং এখান থেকে একজন অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে আসামীকে গ্রেফতার করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post