‎উলিপুরে ফ্যাসিস্ট দোসর আবুল হোসেনের নিয়োগ বানিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি ‎



উলিপুর(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের সহযোগী ফ্যাসিস্ট বিএম আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

‎স্থানীয় একাধিক সুত্র থেকে জানা যায়,বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন।তার ক্ষমতার দাপটে এলাকায় একক কর্তৃত্ববাদী মাফিয়া তন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।তার ভয়ে নানান অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করার সাহস কেউ দেখাতে পারতো না।তিনি একই সাথে হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।

‎ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক ভাবে দুই জায়গা থেকে সরকারী সুবিধা ভোগ করেন।২০০৯ সালে জোটগত ভাবে আওয়ামী লীগ মহাজোট সরকার গঠন করলে বিএম আবুল হোসেন স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচনে হাতিয়া ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।এরপর থেকে ক্ষমতার দাপট এতোই বেড়ে যায় যে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরেও হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও একই সাথে পালন করেন।

‎হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ বানিজ্য করে অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

‎শুধু তাই নয় তার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন কালে চতুর্থ শ্রেণীর নৈশী প্রহরী ছাক্কু মিয়ার বৈধ নিয়োগ কে ক্ষমতার জোরে ব্যাকবেস হওয়া সত্ত্বেও তাকে চাকুরিচ্যুত করে ১৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাক্কু মিয়ার পদে অন্য একজন কে নিয়োগ প্রদান করেন।

‎তার সীমাহীন দুর্নীতি ও অপকর্মের অন্যতম কারণ ছিলো উলিপুর ৩ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা মার্কার এমপি অধ্যাপক আব্দুল মতিনের সাথে ঘনিষ্ঠতা।

‎আবুল হোসেন এমপি অধ্যাপক আব্দুল মতিনের ঘনিষ্ঠজন হিসাবে পুরা উপজেলা জুড়ে ব্যাপক পরিচিত ছিলো।এজন্য তার মুখের উপর কথা বলার সাহস দেখাননি।

‎নিয়োগ বানিজ্য ও ক্ষমতা অপব্যবহারের বিষয়ে ছাক্কু মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন আমি ১৯৯৫ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত হই,আমার পেপার কাটিং,নিয়োগ পরিক্ষা ও রেজাল্ট এবং যোগদান পত্র সব কিছুই বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া মেনে করা হয়।এমনকি ব্যানবেইসেও আমার নাম অন্তর্ভুক্তি হয় কিন্তু আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে আমার সাথে জুলুম করে আমার জায়গায় অন্য একজন কে ১৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক বিএম আবুল হোসেন।আমি বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।

‎ছাক্কু মিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিয়োগ কর্তা প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিক কে জানান বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধি মোতাবেক ছাক্কু মিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,তার নিয়োগের পরে আমি অন্য একটি স্কুলে চলে যাই।বিএম আবুল হোসেন প্রধান শিক্ষক হয়ে যে নিয়োগ টি দিয়েছেন সেটা বে-আইনি ও অবৈধ।

‎আবুল হোসেনের অত্যাচার ও নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করেন হাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ন আহবায়ক আফজাল হোসেন।আফজাল হোসেন সাংবাদিক কে জানান ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সেন্টারে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট হই।আমি এজেন্ট থাকার কারণে আ লীগের দোসর আবুল হোসেন আমাকে ভোট কেন্দ্র থেকে মারতে মারতে বাহিরে বের করে গলা ধাক্কা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।আজ বিএনপির সুদিন আসলেও এই অত্যাচারী ফ্যাসিস্টের দোসরের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি সত্যিই অনেক হতাশ হয়েছি।

‎হাতিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন মিয়া বলেন আবুল হোসেনের ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিলো অসহায়।তিনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নানা দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো কারও সাহস ছিলো না,শুধু ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতি নয় তিনি একাধারে হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ বানিজ্যের সাথেও জড়িত।কম করে হলেও ৫০ লক্ষাধিক টাকার নিয়োগ বানিজ্য করেছেন।

‎হাতিয়া বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য জাহিদ হোসেন বলেন এই ফ্যাসিস্টের দোসর আবুল হোসেন এতো অপকর্ম করার পরেও দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন,এর পিছনে বিএনপিরই কিছু সুবিধা ভোগী নেতা তাকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন।আমি আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধর ও রাষ্ট্র নায়ক জনাব তারেক রহমান স্যারের কাছে দাবী জানাই আবুল হোসেনের মতো চিহ্নিত ফ্যাসিস্টের দোসরদের যেন কোন ভাবেই বিএনপিতে আসার সুযোগ না পায়।

‎যার হাতে আমার দলীয় ভাই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেই লোক যদি বিএনপির রাজনীতি করার সুযোগ পায় তাহলে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের দুর্দিনে আর কাজ করবে না।

Post a Comment

Previous Post Next Post